নিজস্ব প্রতিবেদক:
এ যেন প্রদীপের নিচের অন্ধকার। একপ্রান্তে বড় বড় অট্টালিকা আর অন্যদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নাগরিকদের মুল রাস্তা ছেড়ে চলতে হয় বস্তা দিয়ে বানানো বিকল্প রাস্তায়। আধুনিক ঢাকা বলা হলেও, রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন এলাকার চিত্র এমনই।
এলাকাবাসীর দাবি বৃষ্টি ছাড়াই ড্রেনের উপচে পড়া ময়লা পানিতে সারাবছরই তলিয়ে থাকে, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ সড়ক। এরপরও সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।
পাখির চোখে আধুনিক ঢাকাখ্যাত রাজধানীর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের বামনারটেক। সড়কে ঘুরে ঘুরে কলা বিক্রি করা এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মত খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে এখানকার মানুষের দিন।
এই এলাকার একজন বাসিন্দা জানালেন, কোনো রোগীর জরুরি অবস্থায় তাকে পরিবহন করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও খুবই কষ্টসাধ্য এ এলাকা থেকে। তারপর এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট তলিয়ে বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, নামেই এটি নগর। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হবার পর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি তাদের বঞ্চনা। যদিও উত্তরের মেয়রের বাস উত্তরায়।
এলাকার আরেক বাসিন্দা জানালেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। ঘর থেকে একটু বের হয়ে হাঁটাচলা করার উপায়ও নেই তার এলাকার রাস্তাঘাটের এমন অবস্থার কারণে।
দুই কিলোমিটারের বেশি বামনারটেকের প্রধান সড়কটি এতটাই বেহাল যে ছোট ছোট রিকশা ছাড়া এলাকায় ঢুকতে পারে না বড় যানবাহন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো এমপি, মন্ত্রী বা আমলা, কেউ এসে দেখে না। এমন অবস্থায় কি করে মানুষ চলাফেরা করে! এলাকায় দোকান ও বাড়ি ভাড়া দিতে খুবই সমস্যায় পড়ছেন তারা।
তারা জানালেন, জলাবদ্ধ সড়কের অবস্থাও বেহাল। বহু মানুষ এখানে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাত-পা ভেঙ্গেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি দীর্ঘদিনের তাদের এই দুর্ভোগ কমাতে কখনোই উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বছর বছর গণমাধ্যমে তাদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হলেও গুরুত্ব দেয়া হয়না। তাই হতাশা আছে গণমাধ্যম নিয়েও।
ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করা এক এলাকাবাসী জানালেন, রাস্তাঘাটের যা অবস্থা, তাতে চলাচল দুষ্কর। যেটুকু এলাকায় ঘোরা যায়, তাতে দিনে দুই হাজার টাকার বেচাকেনাও হয়না।
উত্তর সিটিতে যুক্ত হয়েছে ২০১৭ সালে, এরপর সাত বছরেও নগর কর্তৃপক্ষের সুনজরে আসেনি বামনারটেক।
Leave a Reply